 | আমি রিপ্লে দিতে চাইনি, তবে বার বার মেসেজগুলো আমাকে বাধ্য করেছে রিপ্লে দিতে। তোমি যে মেসেজ লিখছ আমি কেমন আছি, এ থেকে বুঝা যায় তোমার বিবেক বলে কিছু নেই। থাকলে আমি কেমন আছি জানতে চাইতেনা। আর কেমন আছি তা জানিয়ে তোমাকে কষ্টও দিতে চাইনা। তবুও একগাল হেসে বলব অনেক ভাল আছি। অভিনয়ের একটা সীমারেখা থাকা দরকার, আমি অবুঝ ছোট বাচ্চা নই যে আমাকে সবকিছু বুঝিয়ে অভিনয় করে যাইবা। আমি অল্প শিক্ষিত হতে পারি, তবে বোকা নই। তুমি কি চাও তা আমার আর বুঝার বাকি নেই। তাই তোমাকে মুখে বলতে হবেনা। নিজেই তোমার আর বাপ্পীর পথ থেকে সরে দাড়িয়েছি। আর কোনদিন বন্ধুত্তের দাবী নিয়ে তোমাদের সামনে এসে দাড়াবনা। ইচ্ছে হলে ইমু এবং ফেইসবুকে ব্লকও দিতে পারো। তবুও বলব আমার এই পরিনতি এবং নতুন জীবনের জন্য তুমি দায়ী নও। তোমার জায়গায় আমি থাকলে একই কাজ করতাম, ভালবাার মানুষের খোজ খবর নেয়ার জন্য বাপ্পীকে বেছে নিতাম। আর বাপ্পীকে খুশি করতে, বাপ্পীর রাগ থামাতে এড়িয়ে চলতাম শ্রাবন নামের অভাগাটাকে। কয়েকদিন ধরে অনলাইনে আসলে মনে হয় বাপ্পীকে ফোন করে ইমুতে আসো, তাইতো একসাথে ইমুতে আসা হয় এক সাথে যাওয়া হয়। না আমি হিংসে করছিনা, শুধু বুঝাতে চেয়েছি ঐ সময়টায় ইমুতে এই অভাগাটাও থাকে। তবে কেন জানি আমার অপরাধ খোজে পাচ্ছিনা, তাহলে হয়তো কষ্টগুলো মেনে নিতে পারতাম। জীবনটা আর নষ্ট হতে দিতামনা। আমার আবেগটাই মনে হয় আমার অপরাধ। তবে ভয় পেওনা, আমার এই নতুন করে নষ্ট জীবনে আসার পিছনে তোমাকে দোষারোপ করবনা। জানো হঠাৎ করে এই জীবনে এসে অনেক কষ্ট হইছে নিজেকে মানিয়ে নিতে। আর ১৫দিনের মত লাগবে, আমি আবার এই জীবনের পাকাপুক্ত খেলোয়ার হয়ে যাব। আব্বু আম্মুকে বলে দিয়েছি আমি আর টাকা পাঠাতে পারবনা। ওরা মেনে নিয়েছে। আমি জানি তুমি অনেক মিথ্যাবাদী হয়ে ওঠেছো। তবে নাজেরই লজ্জা লাগতেছে যাকে এত বিশ্বাস করতাম সে কেন আমাকে মিথ্যে বলবে? ও এসব বলছি কেন? ইন্টারনেট সফটওয়্যার এতটাই সুবিধা দিয়েছে যে, প্রিয়জন কারসাথে কি বলে সবই নিজে শোনা যায়। থাক ওসব কথা। তুমি প্রতিদিন অনলাইনে এসে বাপ্পীর সাথে কথা বলেছো আমার সাথে কেন বলোনি, এই বিষয়ে কোন অভিযোগ নেই আমার। সকাল বিকাল কি অবস্থায় আছো মেসেজ দাওনি তাতেও কোন অভিযোগ নেই আমার। তবে একটা অভিযোগ আছে আর সেটা উপরে ফটো মেসেজে স্পস্ট বুঝা যায়। আমি কার জন্য কি করলাম তাতেও কোন দুঃখ নেই, দুঃখ শুধু একটাই ঐদিন না মরে বেচে গেলাম কেন? না বাঁচলে এই মিথ্যে অভিনয়গুলো আমাকে দেখতে হতনা। পরজনমে আমাকে তুমি শুরু থেকে চেয়েছিলে, আর আমি ঈশ্বরের কাছে পার্থনা করি, কোন জনমেই যেন তোমার সাথে আমার দেখা না হয়। আমি এখন অনেক সুখে আছি, অনেক দেরীতে হলেও অভিনয়গুলো ধরতে পেরেছি আর অনেক দেরীতে হলেও আমার স্বাদের আগের জীবনটাকে ফিরে পেয়েছি। তবে এখন আর ফিরাবার কেউ নেই, বন্ধুত্ত অপশনটা সারাজীবন বিশ্বাস ঘাতক আর ঘৃণার খাতায় লেখা থাকবে, মরার পূর্ব মূহূর্ত পর্যন্ত দোস্ত শব্দটা আর কারও জন্য প্রযোয্য হবেনা। আমি সারাজীবন দোয়া করব, তুমি ভাল থেকো, সুস্থ থেকো। আমার মত করুন পরিণতি যেন তোমার না হয়? আমাকে ভুলে যেও, যদি কখনো মনে পড়ে, ঈশ্বরের কাছে পার্থনা করবা এই অভাগাটাকে যেন ভুলতে পারো। আমি আর অল্প কিছুদিনের যাত্রি এই সুন্দরতম জীবনের। দেশে যাব কিছুদিনের মধ্যে, কারন দ্বিতীয়বারও শেষ। বাবা মাকে দেখার খুব আফসোস হয়। তাই যাব, দেখে যেতে না পারলে কষ্ট লাগবে। আমার মত হতভাগা বন্ধু যেন কারও জীবনে না আসে। হে, আমি আজ থেকেই আমার সেই চিরচেনা পুরোনো জগতে ফিরে এসেছি। আর পরবর্তীতে আমার কোন দুঃসংবাদ তোমার কানে পৌছবেনা, তোমার অনুশোচনাও আমার কষ্ট লাগবে, তাই তোমি যেন জানতে না পারো সব ধরনের চেষ্টাই চালাচ্ছি। ভাল থাকো তুমি আর ভাল থাকুক তোমার ভালবাসা, বন্ধুজন। তবে নিজের মত চলতে গিয়ে আর কাউকে অন্ধকার জগতে ঠেলে দিওনা, জগৎটা খুব খারাপ। আমি শ্রাবন আজ থেকে তোমার কাছে মৃত। ভাল থেকো তুমি, আমি ভালবাসব আগের মতই, তবে অনেক দূর থেকে। অনেকটা গোপনে। রমাকান্ত কামার। চিরদিনের জন্য সব দোষ নিজের কাধে নিয়ে আমি ফিরে যাচ্ছি আমার চিরচেনা পথে। ভাল থেকো মধুর মা, আর পাগলি তোমার কবুতরের নতুন বেবী হলে নাম রেখো শ্রাবন আর শ্রাবন্তী। শেষ ইচ্ছা এটা আমার। চিরদিনের জন্য বিদায় নিলাম........ ,,,,,,,,ঝরে পড়া শ্রাবন,,,,,,, |
No comments:
Post a Comment